কালচার বনাম সিভিলাইজেশন

 

কালচার বনাম সিভিলাইজেশন 

সহজ কথায় ব্যষ্টি বা ইণ্ডিভিজুয়্যালের যা ব্যক্তিত্ব বা পার্সন্যালিটি, সমষ্টি বা কমিউনিটির তা-ই কালচার।

আমরা যখন কোন একজন লােক সম্বন্ধে বলি : ‘লােকটার পার্সন্যালিটি আছে, তখন আমরা সেই লােকটির এমন কতকগুলি গুণসমষ্টির দিকে ইশারা করি, যেগুলি ঐকান্তিকভাবে তার নিজ এবং যারা দ্বারা সে অপর সাধারণ হইতে পৃথক। অথচ ঐ গুণ-সমষ্টি বা পার্সন্যালিটি ঐ লােকটির বিশেষত্ব নয়। 

কারণ পার্সন্যালিটি আরও অনেক লােকের আছে। পার্থক্য শুধু এই যে, সকলের পার্সনালিটি রূপে-গুণে এক নয়। ব্যক্তিত্বে-ব্যক্তিত্বে সুস্পষ্ট পার্থক্য রহিয়াছে। 

এ পার্থক্যের দ্বারাই তাদেরে চিনা যায়। ঐ পার্থক্যটুকুই তাদের নিজস্বতা। নিজস্বতাই ঐ পার্থক্যের প্রাণ। ঐটুকুই ব্যক্তিত্ব। 

কালচার বনাম সিভিলাইজেশন

ঠিক তেমনি, সকল শােক-সমষ্টিরই অর্থাৎ সব কমিউনিটি সমাজ বা জাতিরই একটা নিজস্ব সমবেত ব্যক্তিত্ব বা কর্পোরেট পার্সন্যালিটি আছে। তারই নাম ঐ লোেকসমষ্টি বা কমিউনিটির কালচার। 

এই লােক-সমষ্টি বা কমিউনিটিকে আমরা অবস্থাভেদে জাতি বা ন্যাশন, উপজাতি বা ন্যাশন্যালিটি, সমাজ বা সােসাইটি, এমন কি পরিবার বা ফ্যামিলি বলিতে পারি বলিয়া থাকি। 

জাতি বা ন্যাশন শব্দটা কোন ক্ষেত্রে বেশী ব্যবহৃত হয়?

জাতি বা ন্যাশন শব্দটা ইদানিং বেশির ভাগ রাষ্ট্রীয় অর্থেই ব্যবহৃত হইয়া থাকে। নৃতাত্ত্বিক এথনিক্যাল বা রাশিয়াল অর্থে ততটা নয়। ধর্মীয় অর্থে ত নয়ই। 

একটি রাষ্ট্রের সব নাগরিক মিলিয়াই ন্যাশন বা রাষ্ট্রীয় জাতি, নৃতত্ত্ব, ধর্ম ও ভাষার দিক দিয়া এক না হইলেও। 

যেমন আমরা বাংলাদেশীরা এক রাষ্ট্রীয় জাতি বা ন্যাশন, যদিও নৃতত্ত্ব ধর্ম ও ভাষার দিক হইতে আমরা এক নই। অপর দিকে, রাষ্ট্রের নাগরিক না হইলে নৃতত্ত্ব ধর্ম ও ভাষার দিক হইতে এক গােষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের লােক হইয়াও এক ন্যাশন হয় না। 

যেমন পশ্চিম বাংলার লােকেরা ভাষা ও নৃতত্ত্বের দিক হইতে আমাদেরা গােষ্ঠী ও সমাজের লােক হইয়াও আমাদের সাথে এক জাতি বা ন্যাশন নয় এবং ভারতীয় মুসলমানেরা ধর্ম নৃতত্ত্ব ও ভাষার দিক হইতে এক গােষ্ঠী এক সমাজের লােক হইয়াও আমাদের ন্যাশনের লােক নয়। কিন্তু এই রাষ্ট্রীয় জাতির পার্সন্যালিটি অর্থাৎ কালচার এক নাও হইতে পারে। 

একই ন্যাশনের ভিতরে একাধিক ন্যাশনালিটি থাকিতে পারে। তকালীন যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের লােকেরা একই রাষ্ট্রীয় ন্যাশনের অন্তর্ভুক্ত হইয়াও পৃথক ও বস্ত্র ন্যাশনালিটি এবং পৃথক ও স্বত্র কর্পোরেট পার্সন্যালিটির অধিকারী ছিল। দুই অঞ্চলের কালচারও তাই ধন্দ্র ছিল।

Read Also :

Getting Info...

Post a Comment