সাবাই আন্দোলন এর ইতিহাস

হযরত ওসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে ইয়েমেনের সানা এলাকার ইহুদী আবদুল্লাহ বিন সাবাহ বসরার গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে আসীরের নিকট গিয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে। সে কোরআন এবং হাদীস ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে বিভিন্ন দ্বান্দ্বিক মতবাদ প্রচার করা শুরু করে মুসলমানদের মধ্যে দল-উপদল সৃষ্টি করে। এরূপ একটি উপদল প্রথমে হযরত ওসমান (রা.) কে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন মুসলিম সমাজ সংঘের্ষ লিপ্ত হয়। 

সাবাহর অনুসারীরা উভয় দলে মিশে গিয়ে হযরত আলী বনাম হযরত আয়েশার মধ্যে উষ্ট্রের যুদ্ধ এবং হযরত আলী বনাম হযরত মুয়াবিয়ার মধ্যে সিফফীনের যুদ্ধ সংঘটিত করে। সরলপ্রাণ মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্য এ সময় তারা ‘জমিয়তে মুহিব্বিনে আহলে বায়াত’ নামে সংগঠন তৈরি করে। 

সাবাই আন্দোলন এর ইতিহাস

তারা রাসুল (সা.) ও হযরত আলী (রা.)কে মাত্রাতিরিক্ত ভক্তির কথা প্রচার করে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। 

কুচক্রী আবদুল্লাহ ইবনে সাবহর প্ররোচনায় হযরত আলী (রা.)এর আমলে মুসলমানদের মধ্যে শিয়া, খারিজী ও সাবাইপন্থী উপদলের সৃষ্টি হয়। উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে এই সাবাইপন্থীরা মুসলমানদের আরও অনেক উপদলে বিভক্ত করে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের বিস্তার ঘটায়। 

হযরত ওমর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর থেকে আব্বাসীয় আমলের মধ্যে এই সাবাইপন্থীরা কুরাইশ বনাম অকুরাইশ, হাশেমী বনাম উমাইয়া, আনসার বনাম মুহাজির, হিমারাইট বনাম মুযাহারাইট, মুরুয়ার বনাম দীন, বেদুঈন বনাম স্থায়ী অধিবাসী, শিয়া বনাম সুন্নী, হানাফী বনাম মুতাজিলা, অমুসলিম বনাম মুসলিম, আরবী বনাম পার্সী, ইরাকী বনাম ইরানী প্রভৃতি নৃতাত্ত্বিক, জাতিতাত্ত্বিক, ভাষা, অঞ্চল, ভূখণ্ড ও মতবাদ ভিত্তিক দল উপদল ও দ্বন্দ্ব সংঘাত সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ মুসলিম শক্তির ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত করে। 

সর্বশেষ শিয়া বনাম সুন্নী দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে বাগদাদের সুন্নী খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর পতন ঘটানো হয় তার শিয়া প্রধানমন্ত্রী আলকামীর মাধ্যমে । 

উক্ত আলকামী ও শিয়া বুদ্ধিজীবী নাসির উদ্দীন তুসী হালাকু খানের সাথে গোপন ষড়যন্ত্র করে সূর্যপূজারী হালাকু খানের নিকট মুসলিম আরবের পতন ঘটায় ।

Read Also :

Getting Info...

Post a Comment