জ্বীনের ধরার শিক্ষণীয় কাহিনী

জ্বীনের ধরার সত্য কাহিনী


প্রায় চার বছরের ছোট্র মেয়ে নাফিসা। দেখতে মাশা আল্লাহ অনেক সুন্দর। কিছুদিন আগে পরিবারের সাথে তার এক আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলো। জায়গাটি ছিলো অনেকটা পাহাড়ি, শুনশান এলাকায়। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই তার আচরন কেমন যেন হয়ে গেছে, কথাবার্তা বলার ধরন কেমন যেন অস্বাভাবিক, রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ প্রায়শই ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে কান্নাকাটিরত অবস্থায় জেগে উঠে। অতঃপর এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য তার পরিবার তাকে নিয়ে এক কবিরাজ থেকে আরেক কবিরাজ, শিরকি তাবিজ-কবজেরের পিছনে ছুটছে...।

(অনেকটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

উপরোক্ত ঘটনার মত এমন অসংখ্য ঘটনা আমাদের আশেপাশে ছোট-বড় অনেক মানুষের সাথেই ঘটছে। তারা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পর সেখান থেকে জ্বীনের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। অনেকসময় জ্বীন সরাসরি শরীরের ভেতরে ঢ়ুকে ক্ষতি করে আবার কখনোবা দূর থেকে ভয় দেখায়। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অনেক মানুষ তাদের ছোট বাচ্চাদের কপালের পাশে কালোটিপ দেয়, গর্ভবতি মহিলারা তাদের শাড়ী অথবা জামার সাথে রসুন, দিয়াশলাই ইত্যাদি নিয়ে বের হয়। কিন্তু এইসব কালোটিপ বাচ্চার বিন্দুমাত্রও কোন উপকার করতে পারেনা।

অথচ রাসূল (ﷺ) চৌদ্দশ বছর পূর্বেই এই সমস্যা থেকে বাঁচার প্রদ্ধতি বলে দিয়েছেন।

খাওলাহ বিনতু হাকিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত; নবী (ﷺ) বলেন, 

لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا نَزَلَ مَنْزِلاً قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ - لَمْ يَضُرَّهُ فِي ذَلِكَ الْمَنْزِلِ شَىْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏

"তোমাদের কেউ কোন গন্তব্যে পৌঁছে যদি এই দুআ’ পড়েঃ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: “আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক” (অর্থ: আমি আল্লাহ পাকের কল্যাণকর বাক্যাবলীর ওয়াসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি), তাহলে সে স্থান থেকে বিদায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।" [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৫৪৭]

উপরোক্ত দো'আটি শুধু জ্বীন ও মানুষের আক্রমণ এবং বদনজর থেকেই হেফাজত করেনা; দো'আটি কুকুর, সাপ, বিচ্ছু---এরকম হিংস্র প্রানীর আক্রমণ থেকেও রক্ষা করে।

হাদিসে এসেছে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, 

"যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ -এই দোয়া তিনবার পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে সমস্ত প্রাণী, বিশেষ করে সাপ, বিচ্ছু প্রভৃতি বিষাক্ত ও কষ্টদায়ক প্রাণীর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।" 

[জামে'আত-তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০৪]

সুতরাং: প্রিয় ভাই ও বোন! শিরকি তাবিজ-কবজ ছেড়ে সুন্নাহ'র প্রেসক্রিপশন গ্রহন করুন। কোথাও যাওয়ার পূর্বে ঘর থেকে বের হওয়ার দো'আ পড়ে বের হোন। বাচ্চাদেরকে ছোটবেলা থেকেই এইসব গূরত্বপূর্ণ মাসনূন দো'আগুলো শিক্ষা দিন। আপনার ছোটবাচ্চা যদি কথা বলতে না পারে তাহলে নিজে দো'আটি পড়ে বাচ্চার শরীরে ফুঃ দিন। আবার গন্তব্যস্থলে পৌছে সর্বপ্রথম উপরোক্ত দো'আটি পড়ে প্রবেশ করুন, আপনার ছোটবাচ্চার শরীরে দো'আটি পড়ে ফুঃ দিন(রাসূল ﷺ তার নাতি হাসান ও হোসাইনকে উপরোক্ত দো'আ পড়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন)। তাহলে যতদিন উক্ত জায়গায় অবস্থান করবেন ততদিন জ্বীন-শয়তান আপনার বিন্দুমাত্রও কোন ক্ষতি করতে পারবে না ইনশা আল্লাহ।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সকলপ্রকার কুসংস্কার, শিরক থেকে হিফাজত করে সুন্নাহ নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করার তাওফ্বীক দান করুন। আমীন। 

Read Also :

Getting Info...

Post a Comment