ইব্রাহীম (আ.) এর জন্মস্থান সম্পর্কে পরিচিতি ও সম্রাট নমরূদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ইব্রাহীম (আ.) এর জন্মস্থান সম্পর্কে পরিচিতি ও সম্রাট নমরূদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


ইব্রাহীম (আ.) ইরাকের ব্যাবিলন শহরের উপকণ্ঠে ‘কুসা’ এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। আর এরই প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, তিনি ইরাকের বাবেল অঞ্চলের ‘ঊর’( ا و ر ) নামক শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। আর এ ঊর নগরী সাগরের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। 

মূলত: দজলা ও ফুরাতের পলিমাটি হাজার বছর ধরে জমতে জমতে এক সময় দক্ষিণ দিকে সাগরের উপকূল প্রায় ৬০ মাইল পিছনের দিকে সরে যায়। এই ঊর শহর সম্পর্কে স্যার লিওনার্ড (Sir Leonard Wolley) তাঁর  "Abraham", London, 1935 এ প্রকাশিত গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, আনুমানিক ২১০০ খ্রিষ্টপূর্ব কালে ইব্রাহীম (আ.) এর অভ্যূদয় হয়েছিল। সে সময়ে ‘ঊর’ শহরের লোকসংখ্যা ছিল আড়াই লক্ষ্যের মত কিংবা ৫ (পাঁচ) লক্ষ্য ও হতে পারে। আর এ শহরটি একটি বিশাল ব্যবসায় এবং শিল্পকেন্দ্র ছিল বলে জানা যায়। আর এ রাজ্যের রাজধানী এর সীমানা ছিল বর্তমান ইরাক থেকে উত্তর দিকে কিছুটা কম এবং পশ্চিমে কিছু বেশি ছিল। আর 

মূলত: দেশের অধিকাংশ লোকের পেশাই ছিল ব্যবসায়। এসব তথ্য প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে সে যুগের যেসব শিলালিপি হস্তগত হয়েছে সেখান থেকে তথ্য সমূহ জানা যায়।  [স্যার লিওনার্ড (Sir Leonard Wolley) : "Abraham", London, 1935]।

অধিকন্তু আরও বলা যায় যে, সে সময়ে তিন শ্রেণির অধিবাসী দেখা যায়। যথা-

১. আমীলূ : এরা উচ্চ শ্রেণির লোক ছিল। এদের মধ্যে পূজারী, সাধারণ বেসামরিক কর্মচারী শ্রেণির লোক অন্তর্ভূক্ত ছিল। আর ইব্রাহীম (আ.) এর পিতা আযর ছিলেন রাজার পূজার ও প্রধান উপদেষ্টা। আর এক্ষেত্রে তাই বলা যায় যে, ইব্রাহীম (আ.) উচ্চ বংশে হয়েছিল তৎকালীন সময়ে। 

২. মিশকিনু : এরা ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং কৃষিজীবি ছিল। এবং

৩. আরদু : এ শ্রেণির লোকরা ছিল ক্রীতদাস। 

ইব্রাহীম (আ.) ও নমরূদ এর ঘটনাটি আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আমরা কি নমরূদের মূল নাম সম্পর্কে জানি। আসলে এটি ছিল সম্রাটের উপাধি। আর তাই এ প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইব্রাহীম (আ.) এর সাথে যে সম্রাটের বিতর্ক হলো ও রাজদরবারে মুর্তি ভাঙ্গার অপরাধে যে অগ্নিকুণ্ডের নিক্ষেপ করার যে শাস্তির বিধান করা হলো সেই সময়ের ইরাকের বাবেল শহরের সম্রাটের মূল নাম ছিল : যারহি ইবনে তহমাসিফান। [তারিখে তাবারী, পৃ. ১/১৬২-১৬৩]।

যাই হোক, এই অগ্নিকুণ্ডের পরীক্ষায় ইব্রাহীম (আ.) উত্তীর্ণ হলেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় বন্ধুকে পরীক্ষায় উত্তীণ করে আগুনকে ঠাণ্ডা হয়ে শীথল হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন-

قُلۡنَا یٰنَارُ کُوۡنِیۡ بَرۡدًا وَّ سَلٰمًا عَلٰۤی اِبۡرٰهِیۡمَ

অর্থ : ‘হে আগুন! ইব্রাহীমের ওপর সুশীতল ও নিরাপত্তার কারণ হয়ে যাও।’ [সূরা আম্বিয়া : ২১/৬৯]।

Read Also :

Getting Info...

Post a Comment