নামাযের গুরুত্ব ও ফযীলত
ঈমান গ্রহণ করার পরে একজন ঈমানদারের নিকট সর্বপ্রধান দাবী যে, সে নামায আদায় করবে। কুরআনে সকল ইবাদতের মধ্যে নামাযের সবচেয়ে বেশি তাকীদ করা হয়েছে এবং তা কায়েম করার উপর সর্বাধিক জোর দেয়া হয়েছে।
কারণ নামায হলো গোটা দ্বীনের ভিত্তি। নামায এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা মুমিন জীবনে সার্বক্ষণিক ফরয। সে ধনী কিংবা গরীব হোক সুস্থ বা অসুস্থ হোক, মুকীম না মুসাফির হোক (বাড়িতে বা সফরে থাকুক)। এমনকি যুদ্ধাবস্থায়ও যোদ্ধাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নামায আদায় করা ফরয।
এই মহান ফযীলতপূর্ণ ইবাদতটি আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ তা কুরআন হাদীসের আলোকে নিম্নে পেশ করা হলো :
حافظوا على الصلوت والصلوة الوسطى وقوموا لله قانتين.
১. তোমরা নামায সংরক্ষণ করো, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামায। আর আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়াও যেমন অনুগত সেবকরা দাঁড়ায়। (সূরা আল-বাকারা : ২৩৮)
يأيها الذين امنوا لا تلهكم أموالكم ولا أولادكم عن ذكر الله ومن يفعل ذلك فأولئك هم الخاسرون.
২. হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে না রাখে। যারা এরূপ করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মুনাফিকূন : ৯)
أقم الصلوة. إن الصلوة تنهى عن الفحشاء والمنكر.
৩. নামায কায়েম করো, নিঃসন্দেহে নামায অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। (সূরা আল-আনকাবৃত : ৪৫)
واستعينوا بالصبر والصلوة وانها لكبيرة الأعلى الخشعين.
৪. তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নামায নিঃসন্দেহে একটি কঠিন কাজ, কিন্তু অনুগত বান্দাদের পক্ষে তা মোটেই কঠিন নয়। (সূরা আল-বাকারা : ৪৫)
৫. মুমিন বান্দা ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, নামায অর্থাৎ মুমিনরা নামায পড়ে আর কাফেররা নামায পড়ে না। (আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী)
৬. ঈমান এবং কুফরের মধ্যে নামাযই পার্থক্যকারী। (মুসলিম)
৭. হযরত আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, একবার শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যাচ্ছিল। এমন সময় নবী (সা) ঘরের বাহিরে এলেন এবং একটি গাছের দু'টি শাখা ধরে ঝাঁকি দিলেন। তখন ঝরঝর করে গাছের শুকনো পাতা পড়তে লাগলো ।
নবী (সা) বললেনঃ হে আবু যর! যখন কোন মুমিন একনিষ্ঠভাবে আন্তরিকতার সাথে নামায পড়ে তখন তার পাপরাশি ঠিক এভাবে ঝরে পড়ে যেমন এ গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়েছে। (মুসনাদে আহমাদ)
৮. যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায ত্যাগ করলো, তার ওপর হতে আল্লাহর যিম্মাদারী মুক্ত হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ)
৯. হাদীসে আছে আল্লাহ বলেন, বান্দা যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথেই থাকি। যখন সে একা স্মরণ করে আমি তখন তাকে একা স্মরণ করি। যখন সে কোন জামায়াতে আমাকে স্মরণ করে তখন এর চেয়েও ভাল জামায়াতে (ফেরেশতাদের মধ্যে) আমি তাকে স্মরণ করি। যখন সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তখন তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। যখন সে এক হাত আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে যাই। যখন সে আমার দিকে হেঁটে আসে তখন আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (বুখারী ও মুসলিম)
১০. একবার নবী (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন : তোমাদের কারো ঘরের পাশ দিয়ে যদি প্রবাহিত নদী থাকে এবং সে ঐ নদীতে দৈনিক পাঁচ বার গোসল করে, তোমরা বলো তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে কী? সাহাবীগণ জবাব দিলেন না, তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। নবী (সা) বললেনঃ এ অবস্থা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের। আল্লাহ তা'আলা এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের বিনিময়ে তার পাপগুলো মিটিয়ে দিবেন । (বুখারী ও মুসলিম)
১১. হযরত হুযায়ফা (রা) বলেন, নবী করীম (সা) যখন কোন কঠিন সমস্যায় পড়তেন, তখনই তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন । (আবু দাউদ)
১২. হযরত আলী (রা) বলেন- নবী পাক (সা) এর জীবনের শেষ মুহূর্তে তার মুখ দিয়ে যে কথাগুলো নিঃসৃত হয় তা হলো নামায, নামায, নামায । (আল-আদাবুল মুফরাদ)
১৩. নামায দ্বীন ইসলামের স্তম্ভস্বরূপ। যে নামাযের হিফাযত করলো, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করলো। যে নামাযের হিফাযত করলো না, সে তার দ্বীনকে ধ্বংস করলো। (আল-হাদীস)
১৪. নামায মুমিনের জন্য মি'রাজ। (আল-হাদীস)
১৫. কোন গুনাহ করার কারণে কোন নামাযী লোক যদি জাহান্নামে প্রবেশ করে তবে তার সিজদার অংশগুলোকে জাহান্নাম স্পর্শ করতে পারবে না। (আল-হাদীস)
১৬. নামাযের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। নামাযের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, নামাযের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। (আল-হাদীস)
১৭. সঠিক ওয়াক্তে নামায পড়া আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়। (আল-হাদীস)
১৮. আল্লাহ মানুষকে সিজদারত অবস্থায় দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। (আল-হাদীস)
১৯. নামায বেহেশতের চাবি। (আল-হাদীস)
২০. বান্দা ঐ সময়ে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে আল্লাহর সামনে সিজদায় থাকে । (মুসলিম)
২১. নামাযকে আমার জন্য চোখের শীতলতাস্বরূপ (অন্তরের প্রশান্তি) বানানো হয়েছে। (আল-হাদীস)
