বিয়ের আগে ভালোলাগা
সেদিন এক ক্লাসমেটের বিয়ের ছবি দেখে খুশি হলাম। মেয়েটি এক ছেলেকে পছন্দ করতো। তাদের মধ্যে ভালোই ঘুরাফেরা চলছিলো।
বিষয়টা খুব সহজেই ধরা পড়ে যখন দেখতাম, মেয়েটা বাসা থেকে সেজে আসতো না। কিন্তু ক্যাম্পাসে এসে সেজেগুজে তারপর বের হতো। যাক, আল্লাহ তাদেরকে পাপ থেকে বাঁচালেন। কারণ, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক রাখা পাপ।
যাই হোক, যেহেতু 'বিয়ের আগে ভালোবাসা' নিয়ে কথা উঠেছে তাই বলি, বিয়ের আগে কাউকে ভালো লেগে গেলে অহেতুক ঘুরাঘুরি না করে সরাসরি হোক বা কারো মাধ্যমে হোক প্রস্তাব দেয়া উচিত এবং মা-বাবাকে বলা উচিত।
সেই সাথে বিশ্বাস রাখতে হবে, সে যদি আমার ভাগ্যে থাকে তাহলে আসবেই, আর না হলে না। তারপর মা-বাবা রাজি হলে তো হলো; না হলে ধরে নিতে হবে, হয়তো সে আমার ভাগ্যে নেই, অন্য কারোর জন্য নির্ধারিত।
অন্য কারো অধিকারকে তো আমি হরণ করতে পারি না! তাই যত কষ্টই হোক সেই মানুষ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলাই উত্তম। এই উত্তম কাজটা করতে হবে মূলত নিজের ভালোর স্বার্থেই।
কেননা মা-বাবার বারণ সত্ত্বেও আমরা যদি অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখি, তবে নিজেরাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হবো এবং আমাদের ভাগ্যে যে আছে তার সাথেই যেনো পরোক্ষভাবে বেঈমানি হলো।
শুধু তাই নয়, অনৈতিক সম্পর্কের রেশ থাকলে একজনের সাথে বিয়ে হওয়ার পরও দেখা যায় লোকেরা পরকীয়ায় জড়ায়। যা খুবই জঘন্য পাপ।
এতো কথা বলার কারণ হলো, মেয়েটা যাকে পছন্দ করতো তার সাথেই বিয়ে হয়েছে, নাকি পরিবারের পছন্দে হয়েছে, তা আমি জানি না।
কারণ, এমন মেয়েও আমি দেখেছি, যে এক ছেলের সাথে ভালোই ঘুরাঘুরি করতো। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে গিয়ে ছবি তুলে ফ্রেন্ডদের দেখাতো।
অনেকদিন পর তার বিয়ের কথা শুনে যখন জিজ্ঞাস করলাম, “এ কি সেই ছেলেটা?’
তার জবাব ছিল, ‘না। সেই ছেলের ব্যাপারে পরিবার রাজি হয়নি।' মনে মনে বলি, পরিবারের সম্মতির ব্যাপারটা কি ঘুরাফিরার আগে জেনে নিলে ভালো হতো না?
নিজের আবেগের সাথে প্রতারণা করার কী দরকার?
নিছক একটা অপ্রিয় অতীত হয়ে থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে অন্য কারো হাত ধরা! আবেগ-ভালোবাসা সবকিছু বোধহয় এতই সস্তা! নাকি আমরাই একে সস্তা করে ফেলেছি?