আম্মাজান খাদিজার কথা ফেমিনিস্টরা প্রায়ই বলে থাকে। তবে তাঁকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করার জন্যে নয়, তাঁর জীবনীকে কাঁটছাট করে সুবিধা নেওয়া জন্যে।
আম্মাজান খাদিজা রা. হিদায়াত পাওয়ার আগে ব্যবসা করেছেন। কিন্তু স্বশরীরে নয়। একজন ম্যানেজার নিয়োগ দিতেন তিনি। সে-ই তাঁর পক্ষ থেকে মালামাল বেচাকেনা করত। ব্যস, এতটুকুই। তিনি নিজে ব্যবসার কাজে সফর করেছেন কিংবা পরপুরুষের সাথে ওঠাবসা করেছেন, এমন প্রমাণ তো পাওয়া যায় না।
এ তো গেল হিদায়াত পাওয়ার আগের কথা। যখন তিনি আল্লাহর নবি স.-এর হাত ধরে হিদায়াত পেয়েছেন, তখন আর ব্যবসা জারি রাখেননি। নবিজির কাছে নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ সৌপর্দ করে দিয়েছেন। সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন আল্লাহর রাহে।
এরপর গোটা জীবন স্বামীর খেদমতে কাটিয়ে দিয়েছেন। নবিজির পেছনে ছায়ার মতো লেগে থেকে, তাঁকে আগলে রেখেছেন পরম মমতায়। মক্কার সবাই যখন আল্লাহর নবি স.-কে মিথ্যাবাদী বলত, তখন এই মহীয়সী নারী নবিজিকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিতেন। তাঁকে সাহস যোগাতেন। তাঁর এসব মহৎ গুণের কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে সালাম জানিয়েছেন।
লক্ষ করুন একটু। আম্মাজান যখন ব্যবসার সব অর্থ আল্লাহর রাহে খরচ করে, দ্বীন ও স্বামীর খেদমতে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছেন, তখন আল্লাহ তাঁকে সালাম জানিয়েছেন। তিনি যখন ব্যবসা জারি রেখেছিলেন, তখন কিন্তু এমনটা ঘটেনি। ব্যবসা করার কারণে তিনি এত বড় মর্যাদার অধিকারী হননি। হয়েছেন দ্বীন ও স্বামীর খেদমত পরিপূর্ণভাবে আঞ্জাম দেওয়ার কারণে।
ফেমিনিস্টরা কিন্তু এই কথাগুলি বলে না। ওদের মুখে স্বামীর খেদমতের কোনো কথা আসে না। ওরা শুধু পশ্চিমা নারীদের মতো তথাকথিত স্বাবলম্বী হতে চায়। ওদের মুখে দেখবেন কমন একটা কথা আছে—হিজাব পরে সব করা যায়। সেটাও আবার পরিপূর্ণ হিজাব নয়। স্কার্ফ নামক একটুকরো ত্যানা পেঁচিয়েই নিজেকে হিজাবী দাবি করে তারা। এইসব ভুজুংভাজুং করে আর কতকাল চলবে? নিজের খামখেয়ালিকে জাস্টিফাই করার জন্যে আম্মাজান খাদিজাকে কেন ব্যবহার করতে হবে? তোমাদের আইডল আমেনা ওয়াদুদ আছে না, তাকে কাজে লাগাও! যত্তসব উজবুকের দল!
%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%B0%E0%A6%BE.jpg)